যে কোন আইনগত কাজে সাহায্য প্রদান করায় আমাদের লক্ষ্য।


Showing posts with label চেকের মামলা. Show all posts
Showing posts with label চেকের মামলা. Show all posts

Sunday, May 12, 2024

চেকের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে যেভাবে মামলা করবেন।



চেকের মেয়াদ চলে গেলে  করণীয়ঃ

আইনের অনুযায়ী চেক ইস্যু করার তারিখ থেকে ৬ মাসের মধ্যে  নগদায়নের জন্য ব্যাংকে উপস্থাপন করতে হয় কিন্তু ঐ মেয়াদ উওীর্ণ হয়ে গেলে ব্যাংক ঐ চেক ডিজঅনার করতে আইনত বাধ্য নয়।চেক দেওয়ার তারিখ থেকে  ৬ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলে ঐ চেক ব্যাংকে উপস্থাপনের পর ডিস্অনার হলে তার দিয়ে ১৩৮ ধারার মামলা দায়ের করা যায় না।

ফৌজদারি মামলা:
চেকের মেয়াদ চলে গেলে কিন্তু দন্ড-বিধির ৪০৬/৪২০ ইত্যাদি ধারায় প্রতারণার মামলা করা যায়। দন্ড-বিধির ওই ধারা দুটি যে কোনো প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
ণ্ডবিধির ৪০৬ ধারায় বলা আছে, অপরাধজনিত বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দোষী হলে দায়ী ব্যক্তিকে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে। বিশ্বাসভঙ্গের অপরাধ একটি জামিন অযোগ্য অপরাধ। দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় শাস্তি সর্বোচ্চ ৭ বছর এবং পাশাপাশি অর্থদণ্ডেরও বিধান আছে।
দন্ড-বিধির ৪০৬/৪২০ ধারায় মামলা করতে হলে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আইনজীবরি মাধ্যমে আরজি দাখিল করতে হবে। কোর্ট বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ ও কাগজপত্র যাচাই করে মামলাটি গ্রহণ করে সমন কিংবা ওয়ারেন্ট দিতে পারে আবার তদন্তের জন্য কোন সংস্থাকে নির্দেশও দিতে পারে। আবার থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার আদেশও দিতে পারে।

দেওয়ানী মোকদ্দমা :
নেগোশিয়েব ইন্সট্রুমেন্ট বা চেকটি ডিজঅনার হওয়ার পর মেয়াদ চলে গেলে কিংবা ডিজঅনার ব্যতিতও মেয়াদ চলে গেলে লেনদেনের আনুসাঙ্গিক কাগজপত্র সহ আরজি দাখিলের মাধ্যমে দেওয়ানী আদালতে টাকা আদায়ের মামলা করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে পাওনাদার পাওনা টাকার উপর ২.৫% হারে এডভেলোরেম তৎসহ ১৫% ভ্যাট কোর্ট ফি প্রদান করে মামলা করতে পারেন।

Friday, May 10, 2024

পাওনা টাকা কিভাবে আদায় করবেন।


পাওনা টাকা আদায়ের আইনগত কৌশল:

লিগ্যাল নোটিশ : পাওনা টাকা আদায়ে প্রাথমিকভাবে আপনি আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে নির্দিষ্ট সময় দিয়ে আপনার পাওনা টাকা চাইতে পারেন। 

পাওনা টাকা ফেরত না দিলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় আদালতেই আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। দেওয়ানি আদালতের আশ্রয় নিতে হলে মানি মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে দাবি করা টাকার অনুপাতে কোর্ট ফি দাখিল করতে হয়। 

ফৌজদারি আদালতে আশ্রয় নিতে হলে প্রতারণা এবং অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ এনে সিআর (নালিশি) মামলা দায়ের করা যায়। এছাড়া থানায় এজাহার হিসেবেও মামলা দায়েরের সুযোগ রয়েছে। আদালতে সরাসরি মামলা দায়ের করলে আদালত জবানবন্দি নিয়ে সরাসরি সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি আমলে না নিয়ে পুলিশ বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলতে পারে। এ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আদালত আমল গ্রহণ করে আদেশ দেন। ফৌজদারি আদালতে মামলা হলে দায়ী ব্যক্তি জামিন না-ও পেতে পারেন। অনেক সময় দেখা যায়, দেনাদার টাকা পরিশোধ করার সময় চেকে প্রদান করে থাকেন কিন্তু চেকটি ব্যাংকে নগদায়নের জন্য জমা দিলে চেকটি ডিজঅনার হয়। সে ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের অভিযোগে মামলা দায়ের করার সুযোগ রয়েছে।

টাকা ধার দেওয়ার সময় যা করবেন :

প্রয়োজনে যদি টাকা ধার দিতেই হয়, তাহলে যতই আপনজন হোক না কেন, তাঁর সঙ্গে আপনি একটি লিখিত চুক্তি করে নিন। ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি চুক্তি করে নিন এবং এই চুক্তিতে কী কারণে কত টাকা ধার দিলেন, তা স্পস্ট করে উল্লেখ করতে হবে। কবে অপর পক্ষ টাকা ফেরত দেবে এবং পুরোটা একসঙ্গে না কিস্তিতে পরিশোধ করবে, তা উল্লেখ করতে হবে। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না দেয়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ থাকবে। বিষয়টা স্ট্যাম্প কাগজে উল্লেখ করা দরকার। মনে রাখতে হবে, চুক্তিপত্রটি যেন আইন অনুযায়ী সম্পাদিত হয়। এছাড়া চুক্তিটি নোটারি বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা সত্যায়িত করে নিতে হবে। চুক্তিপত্র সম্পাদনের সময় সাক্ষী হিসেবে রাখুন কয়েকজনকে। নির্দিষ্ট পরিমান টাকা উল্লেখ করে তার নিজের সাক্ষর করা একটি ব্যাংক চেক ও রাখতে পারেন।

স্থানীয় শালিশ বিচারের আশ্রয় :

আপনি এ ব্যপারে প্রথমে গ্রাম্য আদালতে অভিযোগ করবেন কিংবা এলাকার মাতব্বর/মুরুব্বীদেরকে জানিয়ে তাদের আপনার বৈধ কাগজ দেখিয়ে পাওনা টাকা আদায়ের দেয়ার আহ্বান করতে পারেন। এক্ষেত্রে গ্রাম্য আদালত কিংবা মাতব্বর/মুরুব্বীরা আপনাকে এবং পাওনাদারকে ডেকে বৈঠকের মাধ্যমে একটি সিদ্ধান্তে আসতে পারেন। তবে অনেক ক্ষেত্রেই যারা প্রভাবশালী, তার প্রভাবের কাছে স্থানীয় বিচার টিকেনা, এক্ষেত্রে যদি বৈঠকের সিদ্ধান্ত আপনার পক্ষে না যায় তবে হতাশ হবেন না। আপনার উপর কেউ কোন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারবে না। বৈঠকের সিদ্ধান্ত আপনি যদি না মানেন তবে তাদের পরিষ্কার করে বলে দিবেন যে আমি আপনাদের সিদ্ধান্তে খুশি হতে পারছিনা ফলে আমি আদালতে আইনের শরণাপন্ন হবেন। আইন ও আদালত আপনার পাওনা টাকা ফিরে পেতে আপনাকে যথেষ্ট প্রতিকার দিচ্ছে। এক্ষেত্রে আপনি ফৌজদারী আদালত অথবা দেওয়ানী আদালত দুই আদালতেই আপনার পাওনা টাকা ফিরে পেতে মামলা করতে পারবেন।

থানায়  মামলা : 

থানা পাওনাদারের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের মাধ্যমে আতœসাতের মামলা করতে হবে। পাওনা টাকার দাবীর সাপেক্ষে যে সমস্ত কাগজ পত্র বা যে সমস্ত প্রমাণ আপনার কাছে আছে সে সব কিছু তদন্তকারী অফিসারের নিকট জমা দিতে হবে। যেমন- রশিদ থাকতে পারে-ইত্যাদি যে সমস্ত ডকুমেন্টগুলো আছে সেগুলি নিয়ে যেতে হবে।

আদালতে মামলা :

আদালতে যত মামলা-মোকদ্দমা হয়, তার একটা বড় অংশই পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে। আদালতে মামলা দায়ের পূর্বে পাওনা টাকার দাবীর সাপেক্ষে যে সমস্ত কাগজ পত্র বা যে সমস্ত প্রমাণ আপনার কাছে আছে সে সব কিছু নিয়ে একজন আইনজীবীর নিকট যেতে হবে। আইনজীবির মাধ্যমে পাওনাদারকে লিগ্যাল নোটিশ দিতে হবে। লিগ্যাল নোটিশে পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য কয়েক দিন সময় দিতে হবে। লিগ্যাল নোটিশে দেওয়া উক্ত সময়ের মধ্যে যদি পাওনাদার আপনার পওনা টাকা পরিশোধ করে তাহলেতো ভাল। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে যদি উক্ত টাকা পরিশোধ না করে সেক্ষেত্রে পাওনাদারের  বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য প্রমাণগুলো সাথে নিয়ে যেতে হবে নিকটতস্থ কোর্টে। সেখানে গিয়ে একজন ভাল আইনজীবির মাধ্যমে পাওনাদারের বিরুদ্ধে একটি মানি সুটের মামলা করতে হবে।


Wednesday, November 30, 2022

ব্যাংক চেক ডিজঅনার মামলা করতে পারবে না: হাইকোর্ট

 


এখন থেকে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ আদায়ের জন্য কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনার মামলা করতে পারবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

 

ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ আদায়ের জন্য শুধু ২০০৩ সালের অর্থঋণ আইনের বর্ণিত উপায়ে অর্থঋণ আদালতে মামলা করতে পারবে। পাশাপাশি বর্তমানে আদালতে চলমান ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়ের করা সব চেক ডিজঅনার মামলার কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে রায়ে বলা হয়েছে।


সম্প্রতি হাইকোর্ট চেকের মামলায় কারাগারে পাঠানো সংবিধান পরিপন্থী বলেছেন৷ আইনটি পরিবর্তনের জন্য জাতীয় সংসদকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন৷
মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষের আপিলে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন চেম্বার জজ৷ ১৪ নভেম্বর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে মামলাটি পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়েছে৷ মামলাটি তাই এখনো চলমান৷ কিন্তু হাইকোর্টের এই রায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে৷ এই নিয়ে আইনজীবীরা পক্ষে বিপক্ষে কথা বলছেন৷

রায়ে আদালত বলেছেন, ব্যাংকঋণের বিপরীতে যে চেক নিচ্ছে সেটি জামানত। এটি বিনিময়যোগ্য দলিল নয়। জামানত হিসেবে রাখা সেই চেক দিয়ে চেক ডিজঅনার মামলা করা যাবে না।

আদালত বলেন, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ একটি চুক্তির মাধ্যমে নেওয়া হয়ে থাকে। ব্যাংকের কিছু দুর্নীতিবাজ, অসাধু কর্মকর্তা নিজেদের স্বার্থে, তাদের গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নে চেকের অপব্যবহার করে মামলা করে থাকে। তাদের ব্যবহার দাদন ব্যবসায়ীদের মতো।

আদালত বলেন, ঋণের বিপরীতে ব্ল্যাংক চেক নেওয়াটাই বেআইনি। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই বেআইনি কাজ করে আসছে।

রায়ে হাইকোর্ট নিম্নআদালতের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে বলেন, আজ থেকে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি চেক ডিজঅনার মামলা করে তা হলে আদালত তা সরাসরি খারিজ করে দেবেন। একই সঙ্গে তাদের ঋণ আদায়ের জন্য অর্থঋণ আদালতে পাঠিয়ে দেবেন।













Tuesday, November 19, 2019

যেভাবে চেক ডিজনার করবেন


চেক ডিজঅনার হওয়া:
চেকে উল্লিখিত অংকের টাকা একাউন্টে না থাকলে ব্যাংকের পক্ষে টাকা দেয়া সম্ভব হয় না এবং চেক প্রত্যাখ্যান করা হয়, যা চেক ডিজঅনার হওয়া নামে পরিচিত।

কিভাবে চেক ডিজনার করবেনঃ
কেউ যদি আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমান টাকার কোন চেক ব্যাংক থেকে নগদায়ন করতে বলে ,কিন্তু আপনি ব্যাংকে যেয়ে দেখেন সেই পরিমান টাকা প্রদানকারীর হিসাবে নাই, তাহলে আপনি ইচ্ছা করলে চেকটি ডিজনার করতে পারেন। সেজন্য আপনাকে ব্যাংক কর্মকর্তাকে বলতে হবে চেকটি ডিজনার করে দেওয়ার জনয,তখন ব্যাংক কর্মকর্তা নিম্নের কারন দেখিয়ে চেকটি ডিজনার করে দিতে পারেন।

যে সব কারণে চেকের ডিজনার  হতে পারে সেগুলো হচ্ছে:
১।অপযার্প্ত তহবিল
২।অংক সংখ্যায় ও কথায় মিলে না
৩।চেক মেয়াদোত্তীর্ণ হলে
৪।প্রদানকারীর সাক্ষর মিলে না
৫।প্রদানকারী থেকে পরিশোধ বন্ধ করা হয়েছে
৬।রেখাঙ্গিত চেক, কোন ব্যাংকের মাধ্যমে প্রদেয়
৭।প্রাপকের পুষ্ঠাঙ্কন আবশ্যক
৮।অন্য সুনিদিষ্ট কারন যা উপরে উল্লেখ নাই।

এ ছাড়া আরো অনেক কারণে চেক প্রত্যাখ্যাত (বাউন্স) হতে পারে। যে সব কারণে চেক প্রত্যাখ্যাত হতে পারে তার একটি ছাপানো রশিদ প্রতিটি ব্যাংকে থাকে। যে কারণে চেকটি প্রত্যাখ্যাত হলো তা চিহ্নিত করে ওই স্লিপসহ চেকটি প্রাপকের কাছে ব্যাংক ফেরত পাঠায়। উল্লেখ্য, শুধু তহবিল অপর্যাপ্ততার কারণে চেক প্রত্যাখ্যাত হলে তা এই আইনের আওতায় পড়ে।
যা মনে রাখবেন 
১।চেকে দেওয়া তারিখ থেকে  ৬ মাসের ভিতরে আপনাকে চেকটি ডিজনার করাতে হবে
২।ডিজনার করার ৩০ দিনের ভিতর লিগ্যাল নোটিশ না পাঠালে আবার ডিজনার করতে পারবেন।
৩। ১ বার ডিজনার করেই লিগ্যাল নোটিশ পাঠাতে পারবেন
যথাসময়ে মামলা দায়ের করতে না পারলে
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্টের অধীনে মামলা দায়ের করতে না পারলে দন্ডবিধির ৪০৬ এবং ৪২০ ধারা অনুসারে ফৌজদারী মামলা দায়ের করা যায়। তবে এক্ষেত্রে টাকা ফেরত পাওয়ার সুযোগ নেই। দোষী সাব্যস্ত হলে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড এবং জরিমানা হতে পারে।
মামলা করা:
এ ধরনের মামলা একজনের পক্ষে আরেকজন করতে পারেন না। যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে চেক দেয়া হয়েছে কেবল তিনিই মামলা করতে পারেন। মামলা করার ক্ষেত্রে তারিখ খুব গুরুত্বপূর্ণ, চেক ডিজঅনার হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে নোটিশ পাঠাতে হয়। নোটিশ পাঠিয়ে ১৫ দিন অপেক্ষা করতে হয়। এরপর ৩০ দিনের মধ্যে মামলা করতে হয়।

Saturday, November 9, 2019

চেকের মামলা

চেকের মামলা যেভাবে করবেন
আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক লেনদেন এবং অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি হিসেবে একে অপরকে ব্যাংক চেক প্রদান করে থাকি। পরবর্তীতে অর্থ পরিশোধের ব্যর্থতায় চেক প্রদানকারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে হয়।
চেক ডিজঅনার কি: 
চেক ডিজঅনার  বলতে টাকা উঠোনোর জন্য ব্যাংকে চেক জমা দেয়া হলে ওই চেকটির বিপরীতে টাকা প্রদান না করাকে বোঝাবে।

কী কী কারণে ডিজঅনার হয়:
 অপর্যাপ্ত তহবিল, চেকের মেয়াদ উত্তীর্ণ, প্রদানকারীর স্বাক্ষরের মিল না থাকা, টাকার পরিমাণ অংকে এবং কথায় মিল না থাকা, ইত্যাদি।
চেক ডিজঅনার হলে যে আইনে মামলা: যে কারণেই চেক ডিজঅনার হোক না কেন চেক গ্রহীতা চেক দাতার বিরুদ্ধে হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১ এর ১৩৮ ধারার অধীনে ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে পারবেন। এছাড়া দেওয়ানি আদালতে মামলা করা যায়।
মামলা করবেন যেভাবে:
 ১। চেকটি দাতা কর্তৃক স্বাক্ষরিত হওয়ার তারিখ হতে ৬ মাসের মধ্যে অথবা চেকটির বৈধতার মেয়াদের মধ্যে (যেটি আগে ঘটে) ব্যাংকে উপস্থাপন করতে হবে।
 ২। ব্যাংকে উপস্থাপনের পর যদি উহা অপর্যাপ্ত তহবিল বা অন্য কোন কারণে ডিস্অনার হয় তাহলে ওই বিষয়টি জানার ৩০ দিনের মধ্যে চেক দাতাকে লিগ্যাল নোটিশ দিতে হবে। 
৩। লিগ্যাল নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে চেক দাতা গ্রহীতাকে চেকে উল্লেখিত টাকা পরিশোধ করবেন।
 ৪। অতঃপর ওই ৩০ দিন সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে, পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে।
অপরাধের শাস্তি: 
অপরাধ প্রমাণিত হলে চেক দাতা সর্বোচ্চ ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে অথবা চেকে উল্লিখিত টাকার তিনগুণ পরিমাণ অর্থদণ্ডে বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।
বি.দ্র. নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নির্ধারিত পদ্ধতিতে মামলা দায়ের করতে ব্যর্থ হলে প্রতিকার হতে বঞ্চিত হতে হবে। সুতরাং চেক ডিস্অনার হলে দ্রুত আইনি সহায়তা গ্রহণ করুন।

Popular Posts