যে কোন আইনগত কাজে সাহায্য প্রদান করায় আমাদের লক্ষ্য।


Showing posts with label আইন-আদালত. Show all posts
Showing posts with label আইন-আদালত. Show all posts

Saturday, February 15, 2025

জমিজমা সংক্রান্ত আইনের পরিভাষা

 

বাংলাদেশের জমিজমার বিভিন্ন রেকর্ড, মাপজোখ  ইত্যাদি বিষয়ে আইনের বহু পরিভাষা রয়েছে, যেমন:


কিস্তোয়ার : ভূমি জরিপকালে চতুর্ভুজ ও মোরব্বা প্রস্তুত করার পর সিকমি লাইনে চেইন চালিয়ে সঠিকভাবে খ- খ- ভূমির বাস্তব ভৌগোলিক চিত্র অঙ্কনের মাধ্যমে নকশা প্রস্তুতের পদ্ধতিকে কিস্তোয়ার বলে।


খাজনা : সরকার বার্ষিক ভিত্তিতে প্রজার কাছ থেকে ভূমি ব্যবহারের জন্য যে কর আদায় করে তাকে খাজনা বলে।


আমিন : ভূমি জরিপের মাধ্যমে নকশা ও খতিয়ান প্রস্তুত ও ভূমি জরিপ কাজে নিযুক্ত কর্মচারীকে আমিন বলে।


দাখিলা : ভূমিকর/খাজনা আদায় করে যে নির্দিষ্ট ফরমে (ফরম নাম্বার ১০৭৭) ভূমিকর/খাজনা আদায়ের প্রমাণপত্র বা রসিদ দেয়া হয় তাকে দাখিলা বলা হয়।


ডিসিআর : ভূমিকর ছাড়া অন্যান্য সরকারি পাওনা আদায় করার পর যে নির্ধারিত ফরমে (ফরম নাম্বার ২২২) রসিদ দেয়া হয় তাকে ডিসিআর বলে।


কবুলিয়ত : সরকার কর্তৃক কৃষককে জমি বন্দোবস্ত দেয়ার প্রস্তাব প্রজা কর্তৃক গ্রহণ করে খাজনা প্রদানের যে অঙ্গীকারপত্র দেয়া হয় তাকে কবুলিয়ত বলে।


ফারায়েজ : ইসলামী বিধান মোতাবেক মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বণ্টনের নিয়ম ও প্রক্রিয়াকে ফারায়েজ বলে।


খানাপুরি : জরিপের সময় মৌজা নকশা প্রস্তুত করার পর খতিয়ান প্রস্তুতকালে খতিয়ান ফরমের প্রতিটি কলাম জরিপ কর্মচারী কর্তৃক পূরণ করার প্রক্রিয়াকে খানাপুরি বলে।


ওয়ারিশ : ওয়ারিশ অর্থ উত্তরাধিকারী। ধর্মীয় বিধান অনুয়ায়ী কোনো ব্যক্তি উইল না করে মৃত্যুবরণ করলে তার স্ত্রী, সন্তান বা নিকটাত্মীয়দের মধ্যে যারা তার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে মালিক হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন এমন ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের ওয়ারিশ বলে।


শিকস্তি : নদী ভাঙনের ফলে যে জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় তাকে শিকস্তি বলে। শিকস্তি জমি যদি ৩০ বছরের মধ্যে স্বস্থানে পয়স্তি হয় তাহলে শিকস্তি হওয়ার প্রাক্কালে যিনি ভূমি মালিক ছিলেন তিনি বা তার উত্তরাধিকার ওই জমির মালিকানা শর্তসাপেক্ষে পেয়ে থাকেন।


পয়স্তি : নদীগর্ভ থেকে পলিমাটির চর পড়ে জমির সৃষ্টি হওয়াকে পয়স্তি বলে।


দলিল : যে লিখিত বিবরণ আইনগত সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য তাকে দলিল বলা হয়। তবে রেজিস্ট্রেশন আইনের বিধান মোতাবেক জমি ক্রেতা এবং বিক্রেতা সম্পত্তি হস্তান্তর করার জন্য যে চুক্তিপত্র সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করেন সাধারণভাবে তাকে দলিল বলে।


Tuesday, February 4, 2025

ফোন ছিনতাই হলে আপনার করনীয়

 


আপনার ফোন ছিনতাই হলে দ্রুত নিচের পদক্ষেপগুলো নিন—


১. সরাসরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান

 • ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশকে ঘটনাটি জানান।

 • নিকটস্থ থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি (GD) করুন। এতে ফোনের IMEI নম্বর, মডেল, এবং ছিনতাইয়ের স্থান ও সময় উল্লেখ করুন।


২. ফোন ট্র্যাক করার চেষ্টা করুন

 • Find My Device (Android): Google Find My Device ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার ফোন লোকেট করুন বা লক করুন।

 • Find My iPhone (Apple): iCloud-এ লগ ইন করে “Find My iPhone” থেকে ফোন ট্র্যাক করুন বা ডাটা মুছে ফেলুন।


৩. সিম কার্ড ব্লক করুন

 • আপনার মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে কল করে সিমটি বন্ধ করুন এবং নতুন সিম তুলুন।


৪. ব্যাংক ও সামাজিক মাধ্যম সুরক্ষিত করুন

 • যদি ফোনে বিকাশ, নগদ, ব্যাংকিং অ্যাপ থাকে, তাহলে দ্রুত এগুলোর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।


 • Facebook, Gmail, WhatsApp, etc.-এর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন বা লগআউট করুন।


৫. IMEI নম্বর দিয়ে ট্র্যাকিংয়ের আবেদন করুন

 • বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC)-এর মাধ্যমে ফোন ট্র্যাকিংয়ের আবেদন করা যায়।


 • BTRC-এর “National Equipment Identity Register (NEIR)” সিস্টেমে গিয়ে ফোন ব্লক করার অনুরোধ করতে পারেন।


⚠ টিপস:

 • ফোন ছিনতাইকারীর সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করার চেষ্টা করবেন না।

       • সবসময় ফোনের IMEI নম্বর সংরক্ষণ করে রাখুন (Dial *#06#)।

 • স্ক্রিন লক, ফিঙ্গারপ্রিন্ট/পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।


দ্রুত পদক্ষেপ নিলে আপনার ফোন ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলো এবং ব্যক্তিগত তথ্য রক্ষা করা সহজ হবে।

Monday, February 3, 2025

দাম্পত্যকলহ থেকে মুক্তি পেতে কিছু কার্যকর কৌশল এবং পরামর্শ


দাম্পত্যকলহ থেকে মুক্তি পেতে কিছু কার্যকর কৌশল এবং পরামর্শ রয়েছে, যা দম্পতির মধ্যে শান্তি ও সম্পর্কের উন্নতি আনতে সাহায্য করতে পারে।

১. সঠিক যোগাযোগ বজায় রাখা

সক্রিয় শ্রবণ (Active Listening): একে অপরের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। তর্কের সময়, আপনার সঙ্গীর কথা না কেটে, তাদের অনুভূতি ও চিন্তা বুঝতে চেষ্টা করুন।

স্পষ্ট এবং সরল ভাষা ব্যবহার করুন: অনুভূতি ও চাহিদা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করুন। “তুমি কখনও আমাকে সময় দাও না” এর বদলে “আমি তোমার সাথে বেশি সময় কাটাতে চাই” বলুন।

২. মানসিক চাপ কমানো

সাময়িক বিশ্রাম: কখনো কখনো, একটি ছোট বিরতি অথবা একে অপরের কাছ থেকে কিছু সময় দূরে থাকা সম্পর্কের মধ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে।

প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করুন: গরম মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে প্রতিক্রিয়া জানানোর চেয়ে, কিছু সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিন।

মনে রাখুন সম্পর্কের গুরুত্ব: যেহেতু দাম্পত্য সম্পর্কের মূল ভিত্তি ভালোবাসা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, তাই ছোট ছোট বিষয় নিয়ে অযথা তর্ক এড়িয়ে চলুন।

৩. একে অপরকে সমর্থন করা

সহানুভূতি: আপনার সঙ্গী যখন কোনো সমস্যা নিয়ে কষ্ট পাচ্ছে, তখন তার পাশে দাঁড়িয়ে সমবেদনা জানান।

প্রশংসা ও উৎসাহ: ছোট সাফল্য কিংবা ভালো কাজের জন্য প্রশংসা করতে ভুলবেন না। সঙ্গীর মনে হবে, সে মূল্যায়িত হচ্ছে।

৪. একে অপরের ব্যক্তিগত প্রয়োজনকে সম্মান করা

ব্যক্তিগত সময়: দাম্পত্য সম্পর্কের মধ্যে ব্যক্তিগত সময়েরও গুরুত্ব আছে। কখনো কখনো একজনের নিজস্ব স্থান প্রয়োজন হয়, সেটা সম্মান করুন।

নিজস্ব ইচ্ছা পূরণ: একে অপরের পছন্দ ও চাহিদার প্রতি সচেতন হোন এবং সম্পর্কের মধ্যে একে অপরের প্রয়োজনকে সম্মান করুন।

৫. সম্পর্কের জন্য পরিকল্পনা করুন

দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য: সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করুন। দুজনের সম্মিলিত লক্ষ্য ও পরিকল্পনা সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

  স্মৃতি তৈরী করুন: সম্পর্কের মধ্যে নতুন কিছু করতে পারেন—যেমন একসাথে ভ্রমণ বা কোনো শখের কাজ শিখতে পারেন। এতে সম্পর্কের মধ্যে রোমান্স ও মজাও বজায় থাকবে।

৬. কাউন্সেলিং বা থেরাপি গ্রহণ 

যদি সমস্যাগুলো খুব জটিল হয়ে থাকে এবং একে অপরকে বোঝা কঠিন হয়, তাহলে একজন ফ্যামিলি কাউন্সেলর বা ম্যারিজ থেরাপিস্ট এর সাহায্য নিতে পারেন। থেরাপিস্টের কাছে আপনি এবং আপনার সঙ্গী নিজের অনুভূতিগুলো নিরাপদভাবে ভাগ করে সমস্যার সমাধান পেতে পারেন।

৭. ক্ষমা করা এবং ভুল শিকার করা

ক্ষমা করা: সম্পর্কের মধ্যে ক্ষতি হলেও, ক্ষমা করতে শিখুন। দাম্পত্য জীবনে ভুল হওয়া সাধারণ, কিন্তু যদি আপনি বা আপনার সঙ্গী একে অপরকে ক্ষমা করতে পারেন, তবে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

ভুল শিকার করা: একে অপরের ভুল স্বীকার করতে হলে সম্পর্কের মধ্যে বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা বাড়ে।


টিপস:

যথাযথ সময়ে সাহায্য নিন: দাম্পত্য কলহ যদি ক্রমেই গুরুতর হয়ে ওঠে, তখন পেশাদার কাউন্সেলিং বা থেরাপি নেওয়ার চিন্তা করুন।

মৌলিক মূল্যবোধ: সম্পর্কের ভিত্তি ভালোবাসা, বিশ্বাস, সম্মান এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধার উপর দাঁড়িয়ে থাকে। এগুলো যদি থাকে, তবে অনেক কঠিন মুহূর্তেও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব।


উপসংহার:


দাম্পত্যকলহ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সম্পর্কের মধ্যে ভালো যোগাযোগ, পরস্পরের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা, সহানুভূতি এবং মনোযোগী মনোভাব রাখা জরুরি। যদি সমস্যা আরও জটিল হয়, তবে ফ্যামিলি কাউন্সেলিং বা ম্যারিজ থেরাপি যথাযথ সমাধান হতে পারে।

লেখক:

সহিদুন নবী পাপপু

অ্যাডভোকেট 

জেলা ও দায়রা জজ আদালত , ঢাকা

Saturday, May 18, 2024

বিচারের মূর্তির ওপর দাঁড়িপাল্লা ও চোখ বাঁধার অর্থ কী?


ন্যায়বিচারের মূর্তির উপর দাঁড়িপাল্লা এবং চোখ বাঁধা আইনী ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা এবং ন্যায্যতার প্রতীক। দাঁড়িপাল্লা প্রমাণের ওজন এবং প্রতিযোগী স্বার্থের ভারসাম্যের প্রতিনিধিত্ব করে, যখন চোখ বাঁধা নির্দেশ করে যে পক্ষপাত বা কুসংস্কার ছাড়াই ন্যায়বিচার পরিচালনা করা উচিত। এই আইকনিক চিত্রকল্পটি এই ধারণাটি বোঝানোর জন্য যে ন্যায়বিচারটি পক্ষপাতিত্ব বা বৈষম্য ছাড়াই বস্তুনিষ্ঠভাবে করা উচিত।

Friday, May 17, 2024

অনুমতি ছাড়া একাধিক বিয়ে

আইন অনুযায়ী এক স্ত্রীর বর্তমানে আরেকটি বা একাধিক বিয়ে করাকে বহুবিবাহ বলে। আইন অনুযায়ী এক স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় আরেকটি বিয়ে করা যাবে না। তবে কোনো ব্যক্তির যদি এক স্ত্রী বর্তমান থাকাকালে আরেকটি বিয়ে করার প্রয়োজন হয়, তাহলে তাঁকে তাঁর বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের মধ্যে শেষ স্ত্রীর এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে আরেকটি বিয়ে করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করতে হবে।

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ৬ ধারামতে, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সালিসি পরিষদের কাছে অনুমতি না নিলে বিয়ে নিবন্ধন হবে না। অনুমতির জন্য ফি দিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে হবে এবং আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিয়ের অনুমতি দিতে যেসব বিষয়ের প্রতি বিবেচনা করা হবে তার মধ্যে অন্যতম হলো ১. বর্তমান স্ত্রীর বন্ধ্যাত্ব, ২. শারীরিক মারাত্মক দুর্বলতা, ৩. দাম্পত্য জীবন সম্পর্কিত শারীরিক অযোগ্যতা, ৪. দাম্পত্য অধিকার পুনর্বহালের জন্য আদালত থেকে প্রদত্ত কোনো আদেশ বা ডিক্রি বর্জন, ৫. মানসিকভাবে অসুস্থতা ইত্যাদি।

অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে শাস্তি কী

কোনো পুরুষ যদি সালিসি পরিষদের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তবে তিনি অবিলম্বে তাঁর বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের আশু বা বিলম্বিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করবেন। বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীরা আদালতে মামলা করে বিবাহবিচ্ছেদ করতে পারেন।

দ্বিতীয় বিয়ে করার কারণে প্রথম স্ত্রী আলাদা বসবাস করেও ভরণপোষণ পাবেন। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বসবাসরত নাবালক সন্তানদের ভরণপোষণ দিতে বাবা আইনত বাধ্য।

ভরণপোষণের পাশাপাশি স্ত্রী ও সন্তানরা উত্তরাধিকারীর অধিকার লাভ করবেন। মোহরানার টাকা পরিশোধ করা না হলে বকেয়া ভূমি রাজস্ব আদায়ের মতো আদায় করা হবে।

এ ছাড়া অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে এক বছর পর্যন্ত জেল ও ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

পাশাপাশি দণ্ডবিধি আইন ১৮৬০-এর ৪৯৪-এর বিধানমতে, স্বামী যদি স্ত্রীর জীবনকালে পুনরায় বিয়ে করেন তবে সেই ব্যক্তি যে কোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে যার মেয়াদ সাত বছর পর্যন্ত হতে পারে, তদুপরি অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।


Popular Posts