যে কোন আইনগত কাজে সাহায্য প্রদান করায় আমাদের লক্ষ্য।


Showing posts with label Couples Counselling. Show all posts
Showing posts with label Couples Counselling. Show all posts

Monday, February 3, 2025

দাম্পত্যকলহ থেকে মুক্তি পেতে কিছু কার্যকর কৌশল এবং পরামর্শ


দাম্পত্যকলহ থেকে মুক্তি পেতে কিছু কার্যকর কৌশল এবং পরামর্শ রয়েছে, যা দম্পতির মধ্যে শান্তি ও সম্পর্কের উন্নতি আনতে সাহায্য করতে পারে।

১. সঠিক যোগাযোগ বজায় রাখা

সক্রিয় শ্রবণ (Active Listening): একে অপরের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। তর্কের সময়, আপনার সঙ্গীর কথা না কেটে, তাদের অনুভূতি ও চিন্তা বুঝতে চেষ্টা করুন।

স্পষ্ট এবং সরল ভাষা ব্যবহার করুন: অনুভূতি ও চাহিদা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করুন। “তুমি কখনও আমাকে সময় দাও না” এর বদলে “আমি তোমার সাথে বেশি সময় কাটাতে চাই” বলুন।

২. মানসিক চাপ কমানো

সাময়িক বিশ্রাম: কখনো কখনো, একটি ছোট বিরতি অথবা একে অপরের কাছ থেকে কিছু সময় দূরে থাকা সম্পর্কের মধ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে।

প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করুন: গরম মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে প্রতিক্রিয়া জানানোর চেয়ে, কিছু সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিন।

মনে রাখুন সম্পর্কের গুরুত্ব: যেহেতু দাম্পত্য সম্পর্কের মূল ভিত্তি ভালোবাসা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, তাই ছোট ছোট বিষয় নিয়ে অযথা তর্ক এড়িয়ে চলুন।

৩. একে অপরকে সমর্থন করা

সহানুভূতি: আপনার সঙ্গী যখন কোনো সমস্যা নিয়ে কষ্ট পাচ্ছে, তখন তার পাশে দাঁড়িয়ে সমবেদনা জানান।

প্রশংসা ও উৎসাহ: ছোট সাফল্য কিংবা ভালো কাজের জন্য প্রশংসা করতে ভুলবেন না। সঙ্গীর মনে হবে, সে মূল্যায়িত হচ্ছে।

৪. একে অপরের ব্যক্তিগত প্রয়োজনকে সম্মান করা

ব্যক্তিগত সময়: দাম্পত্য সম্পর্কের মধ্যে ব্যক্তিগত সময়েরও গুরুত্ব আছে। কখনো কখনো একজনের নিজস্ব স্থান প্রয়োজন হয়, সেটা সম্মান করুন।

নিজস্ব ইচ্ছা পূরণ: একে অপরের পছন্দ ও চাহিদার প্রতি সচেতন হোন এবং সম্পর্কের মধ্যে একে অপরের প্রয়োজনকে সম্মান করুন।

৫. সম্পর্কের জন্য পরিকল্পনা করুন

দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য: সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করুন। দুজনের সম্মিলিত লক্ষ্য ও পরিকল্পনা সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

  স্মৃতি তৈরী করুন: সম্পর্কের মধ্যে নতুন কিছু করতে পারেন—যেমন একসাথে ভ্রমণ বা কোনো শখের কাজ শিখতে পারেন। এতে সম্পর্কের মধ্যে রোমান্স ও মজাও বজায় থাকবে।

৬. কাউন্সেলিং বা থেরাপি গ্রহণ 

যদি সমস্যাগুলো খুব জটিল হয়ে থাকে এবং একে অপরকে বোঝা কঠিন হয়, তাহলে একজন ফ্যামিলি কাউন্সেলর বা ম্যারিজ থেরাপিস্ট এর সাহায্য নিতে পারেন। থেরাপিস্টের কাছে আপনি এবং আপনার সঙ্গী নিজের অনুভূতিগুলো নিরাপদভাবে ভাগ করে সমস্যার সমাধান পেতে পারেন।

৭. ক্ষমা করা এবং ভুল শিকার করা

ক্ষমা করা: সম্পর্কের মধ্যে ক্ষতি হলেও, ক্ষমা করতে শিখুন। দাম্পত্য জীবনে ভুল হওয়া সাধারণ, কিন্তু যদি আপনি বা আপনার সঙ্গী একে অপরকে ক্ষমা করতে পারেন, তবে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

ভুল শিকার করা: একে অপরের ভুল স্বীকার করতে হলে সম্পর্কের মধ্যে বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা বাড়ে।


টিপস:

যথাযথ সময়ে সাহায্য নিন: দাম্পত্য কলহ যদি ক্রমেই গুরুতর হয়ে ওঠে, তখন পেশাদার কাউন্সেলিং বা থেরাপি নেওয়ার চিন্তা করুন।

মৌলিক মূল্যবোধ: সম্পর্কের ভিত্তি ভালোবাসা, বিশ্বাস, সম্মান এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধার উপর দাঁড়িয়ে থাকে। এগুলো যদি থাকে, তবে অনেক কঠিন মুহূর্তেও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব।


উপসংহার:


দাম্পত্যকলহ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সম্পর্কের মধ্যে ভালো যোগাযোগ, পরস্পরের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা, সহানুভূতি এবং মনোযোগী মনোভাব রাখা জরুরি। যদি সমস্যা আরও জটিল হয়, তবে ফ্যামিলি কাউন্সেলিং বা ম্যারিজ থেরাপি যথাযথ সমাধান হতে পারে।

লেখক:

সহিদুন নবী পাপপু

অ্যাডভোকেট 

জেলা ও দায়রা জজ আদালত , ঢাকা

Friday, May 17, 2024

অনুমতি ছাড়া একাধিক বিয়ে

আইন অনুযায়ী এক স্ত্রীর বর্তমানে আরেকটি বা একাধিক বিয়ে করাকে বহুবিবাহ বলে। আইন অনুযায়ী এক স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় আরেকটি বিয়ে করা যাবে না। তবে কোনো ব্যক্তির যদি এক স্ত্রী বর্তমান থাকাকালে আরেকটি বিয়ে করার প্রয়োজন হয়, তাহলে তাঁকে তাঁর বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের মধ্যে শেষ স্ত্রীর এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে আরেকটি বিয়ে করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করতে হবে।

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ৬ ধারামতে, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সালিসি পরিষদের কাছে অনুমতি না নিলে বিয়ে নিবন্ধন হবে না। অনুমতির জন্য ফি দিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে হবে এবং আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিয়ের অনুমতি দিতে যেসব বিষয়ের প্রতি বিবেচনা করা হবে তার মধ্যে অন্যতম হলো ১. বর্তমান স্ত্রীর বন্ধ্যাত্ব, ২. শারীরিক মারাত্মক দুর্বলতা, ৩. দাম্পত্য জীবন সম্পর্কিত শারীরিক অযোগ্যতা, ৪. দাম্পত্য অধিকার পুনর্বহালের জন্য আদালত থেকে প্রদত্ত কোনো আদেশ বা ডিক্রি বর্জন, ৫. মানসিকভাবে অসুস্থতা ইত্যাদি।

অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে শাস্তি কী

কোনো পুরুষ যদি সালিসি পরিষদের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তবে তিনি অবিলম্বে তাঁর বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের আশু বা বিলম্বিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করবেন। বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীরা আদালতে মামলা করে বিবাহবিচ্ছেদ করতে পারেন।

দ্বিতীয় বিয়ে করার কারণে প্রথম স্ত্রী আলাদা বসবাস করেও ভরণপোষণ পাবেন। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বসবাসরত নাবালক সন্তানদের ভরণপোষণ দিতে বাবা আইনত বাধ্য।

ভরণপোষণের পাশাপাশি স্ত্রী ও সন্তানরা উত্তরাধিকারীর অধিকার লাভ করবেন। মোহরানার টাকা পরিশোধ করা না হলে বকেয়া ভূমি রাজস্ব আদায়ের মতো আদায় করা হবে।

এ ছাড়া অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে এক বছর পর্যন্ত জেল ও ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

পাশাপাশি দণ্ডবিধি আইন ১৮৬০-এর ৪৯৪-এর বিধানমতে, স্বামী যদি স্ত্রীর জীবনকালে পুনরায় বিয়ে করেন তবে সেই ব্যক্তি যে কোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে যার মেয়াদ সাত বছর পর্যন্ত হতে পারে, তদুপরি অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।


Friday, November 15, 2019

বিবাহবিচ্ছেদ ও আমরা

বিবাহবিচ্ছেদ কি ?

বিবাহবিচ্ছেদ বা তালাক শব্দের অর্থ বিচ্ছিন্ন, ত্যাগ করা ইত্যাদি। 

বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে বিবাহবিচ্ছেদের হার বাড়ছে৷ আর এই বিবাহবিচ্ছেদে নারীরাই এখনএগিয়ে আছে।
 বিচ্ছেদ কেন বাড়ছে?বিশ্বাসগুলো কেন স্থায়ী হচ্ছে না? পারিবারিক বন্ধনগুলো কেন সামান্যতেই ঠুনকো হয়ে যাচ্ছে দিন দিন?
কেন ভয়ানক হারে বেড়ে চলছে বিবাহ বিচ্ছেদের ট্রাজেডি?আর কেনইবা নারীরা এগিয়ে আছেন তা নিয়ে নানা কথা রয়েছে৷ প্রশ্ন উঠছে এটা সচেতনতার ফল না কথিত আধুনিকতার প্রভাব ?


ব্যক্তির সচেতনতা বেড়েছে নাকি সামাজিক অস্থিরতার 
প্রভাব পড়ছেনা কি প্রভাব পড়ছে নানা টিভি সিরিয়ালেএসব দেখার আগে আমরা একটু পরিসংখ্যানটা 



গত বছরের পরিসংখানে দেখা যায়,শিক্ষিত মানুষের মধ্য বেশী বিবাহবিচ্ছেদ হছে।
ঢাকাতে প্রতি ঘণ্টায় টি বিবাহ বিচ্ছেদ হচ্ছে।

কী কারণে তালাক হয়:

১। ধর্মীয় অনুশাসন সুশিক্ষার অভাব।
২।পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে অনেক ভুল করা।
৩।তালাকের অপব্যবহার।
৪।পরনারী বা পরপুরুষে আসক্তি।
৫।চরিত্রগত সমস্যা।
৬। বিশ্বাসহীনতা।
৭। যৌতুক, শারীরিক মানসিক নির্যাতন
৮।অধিক পরিমাণে অপরাধ গুনাহ করা, গুনাহে লিপ্ত থাকা।
৯।অযথা সন্দেহ
১০।প্রযুক্তি, ইন্টারনেট, মিডিয়ার অপব্যবহার করা।
১১।মাদক আসক্তি

Popular Posts