যে কোন আইনগত কাজে সাহায্য প্রদান করায় আমাদের লক্ষ্য।


Saturday, May 11, 2024

কখন মানহানি মামলা হয়।

 




মানহানির সংজ্ঞা

১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারামতে, কোনো ব্যক্তি যদি অন্য কোনো ব্যক্তির খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে কথিত বা পঠিত হওয়ার জন্য কথা বা চিহ্ন বা দৃশ্যমান কল্পমূর্তির সাহায্যে সেই ব্যক্তি-সম্পর্কিত কোনো নিন্দাবাদ প্রণয়ন বা প্রকাশ করেন, তবে সেটি মানহানি হয়েছে বলে পরিগণিত হবে। উদ্দিষ্ট ব্যক্তির খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট হবে জেনে বা সুনাম নষ্ট হতে পারে বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও যদিও কেউ নিন্দাবাদ প্রণয়ন ও প্রকাশ করেনও তাহলেও সেটি মানহানি বলে গণ্য হবে।

মানহানির শাস্তি
দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির মানহানি করে, তবে ওই ব্যক্তি দুই বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদে বিনা শ্রম কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।’ 

চলতি বছর পাস হওয়া ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’-এর ২৯ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় বর্ণিত মানহানিকর তথ্য প্রকাশ বা প্রচার করেন, তাহলে ওই ব্যক্তির এমন কর্মকাণ্ড হবে একটি অপরাধ। এর জন্য তিনি অনধিক ২৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এ আইনে মানহানির মামলায় কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়নি।

কোন কাজগুলো মানহানি নয়
দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় কোন কাজগুলো মানহানি হবে সে সম্পর্কে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। পাশাপাশি এই ধারায় ১০টি ব্যতিক্রমের কথাও বলা হয়েছে। অর্থাৎ এই ব্যতিক্রমগুলো আইন অনুযায়ী মানহানি বলে গণ্য হবে না:

১. জনগণের কল্যাণে কারও প্রতি সত্য দোষারোপ করলে।

২. সরকারি কর্মচারীর সরকারি আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করলে।

৩. সরকারি বিষয়-সংশ্লিষ্ট প্রশ্নে কোনো ব্যক্তির আচরণ নিয়ে মতপ্রকাশ করলে।

৪. আদালতের কার্যবিবরণী প্রতিবেদন প্রকাশ করা মানহানির অন্তর্ভুক্ত হবে না। 

৫. যেকোনো জনসমস্যা সম্পর্কে ও কোনো ব্যক্তির আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা।

৬. আদালতে সিদ্ধান্তকৃত মামলার দোষ, গুণ বা সাক্ষীদের সম্পর্কে বা অন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আচরণ সম্পর্কে অভিমত দেওয়া।

৭. গণ-অনুষ্ঠানের অনুষ্ঠানাদি সম্পর্কে কোনো মতামত দেওয়া।

৮. কর্তৃত্বসম্পন্ন ব্যক্তির কাছে সৎ বিশ্বাসে কারও সম্পর্কে অভিযোগ করা হলে সেটিও মানহানি হবে না। যেমন: পুলিশের কাছে কারও ব্যাপারে সৎ বিশ্বাসে অভিযোগ দেওয়া। 

৯. কোনো ব্যক্তি কর্তৃক তার বা অন্য কারও স্বার্থ রক্ষার্থে দোষারোপ করা।

১০. জনকল্যাণের স্বার্থে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে কারও সম্পর্কে কিছু বলা হলে।

বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৯ অনুযায়ী বাংলাদেশি নাগরিকদের বাক্‌স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। তবে এর মানে এই নয় যে, কোনো ব্যক্তিকে তার সম্মানহানি বা সুনাম নষ্ট করার জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোনো কথা বলার অধিকার একজন নাগরিককে দেওয়া হয়েছে। 

মানহানির মামলা কোথায় করবেন
কারও বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করতে চাইলে, আদালতে যেতে হবে। যদি কেউ কারও বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনের অধীন মানহানির মামলা


করতে চান তাহলে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে হবে। আর যদি দণ্ডবিধির অধীন মামলা করতে চান তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা করতে হবে।’ 

No comments:

Post a Comment

Popular Posts