বাংলাদেশের জমিজমার বিভিন্ন রেকর্ড, মাপজোখ ইত্যাদি বিষয়ে আইনের বহু পরিভাষা রয়েছে, যেমন:
কিস্তোয়ার : ভূমি জরিপকালে চতুর্ভুজ ও মোরব্বা প্রস্তুত করার পর সিকমি লাইনে চেইন চালিয়ে সঠিকভাবে খ- খ- ভূমির বাস্তব ভৌগোলিক চিত্র অঙ্কনের মাধ্যমে নকশা প্রস্তুতের পদ্ধতিকে কিস্তোয়ার বলে।
খাজনা : সরকার বার্ষিক ভিত্তিতে প্রজার কাছ থেকে ভূমি ব্যবহারের জন্য যে কর আদায় করে তাকে খাজনা বলে।
আমিন : ভূমি জরিপের মাধ্যমে নকশা ও খতিয়ান প্রস্তুত ও ভূমি জরিপ কাজে নিযুক্ত কর্মচারীকে আমিন বলে।
দাখিলা : ভূমিকর/খাজনা আদায় করে যে নির্দিষ্ট ফরমে (ফরম নাম্বার ১০৭৭) ভূমিকর/খাজনা আদায়ের প্রমাণপত্র বা রসিদ দেয়া হয় তাকে দাখিলা বলা হয়।
ডিসিআর : ভূমিকর ছাড়া অন্যান্য সরকারি পাওনা আদায় করার পর যে নির্ধারিত ফরমে (ফরম নাম্বার ২২২) রসিদ দেয়া হয় তাকে ডিসিআর বলে।
কবুলিয়ত : সরকার কর্তৃক কৃষককে জমি বন্দোবস্ত দেয়ার প্রস্তাব প্রজা কর্তৃক গ্রহণ করে খাজনা প্রদানের যে অঙ্গীকারপত্র দেয়া হয় তাকে কবুলিয়ত বলে।
ফারায়েজ : ইসলামী বিধান মোতাবেক মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বণ্টনের নিয়ম ও প্রক্রিয়াকে ফারায়েজ বলে।
খানাপুরি : জরিপের সময় মৌজা নকশা প্রস্তুত করার পর খতিয়ান প্রস্তুতকালে খতিয়ান ফরমের প্রতিটি কলাম জরিপ কর্মচারী কর্তৃক পূরণ করার প্রক্রিয়াকে খানাপুরি বলে।
ওয়ারিশ : ওয়ারিশ অর্থ উত্তরাধিকারী। ধর্মীয় বিধান অনুয়ায়ী কোনো ব্যক্তি উইল না করে মৃত্যুবরণ করলে তার স্ত্রী, সন্তান বা নিকটাত্মীয়দের মধ্যে যারা তার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে মালিক হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন এমন ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের ওয়ারিশ বলে।
শিকস্তি : নদী ভাঙনের ফলে যে জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় তাকে শিকস্তি বলে। শিকস্তি জমি যদি ৩০ বছরের মধ্যে স্বস্থানে পয়স্তি হয় তাহলে শিকস্তি হওয়ার প্রাক্কালে যিনি ভূমি মালিক ছিলেন তিনি বা তার উত্তরাধিকার ওই জমির মালিকানা শর্তসাপেক্ষে পেয়ে থাকেন।
পয়স্তি : নদীগর্ভ থেকে পলিমাটির চর পড়ে জমির সৃষ্টি হওয়াকে পয়স্তি বলে।
দলিল : যে লিখিত বিবরণ আইনগত সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য তাকে দলিল বলা হয়। তবে রেজিস্ট্রেশন আইনের বিধান মোতাবেক জমি ক্রেতা এবং বিক্রেতা সম্পত্তি হস্তান্তর করার জন্য যে চুক্তিপত্র সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করেন সাধারণভাবে তাকে দলিল বলে।

.jpeg)