যে কোন আইনগত কাজে সাহায্য প্রদান করায় আমাদের লক্ষ্য।


Showing posts with label আইন. Show all posts
Showing posts with label আইন. Show all posts

Saturday, February 15, 2025

জমিজমা সংক্রান্ত আইনের পরিভাষা

 

বাংলাদেশের জমিজমার বিভিন্ন রেকর্ড, মাপজোখ  ইত্যাদি বিষয়ে আইনের বহু পরিভাষা রয়েছে, যেমন:


কিস্তোয়ার : ভূমি জরিপকালে চতুর্ভুজ ও মোরব্বা প্রস্তুত করার পর সিকমি লাইনে চেইন চালিয়ে সঠিকভাবে খ- খ- ভূমির বাস্তব ভৌগোলিক চিত্র অঙ্কনের মাধ্যমে নকশা প্রস্তুতের পদ্ধতিকে কিস্তোয়ার বলে।


খাজনা : সরকার বার্ষিক ভিত্তিতে প্রজার কাছ থেকে ভূমি ব্যবহারের জন্য যে কর আদায় করে তাকে খাজনা বলে।


আমিন : ভূমি জরিপের মাধ্যমে নকশা ও খতিয়ান প্রস্তুত ও ভূমি জরিপ কাজে নিযুক্ত কর্মচারীকে আমিন বলে।


দাখিলা : ভূমিকর/খাজনা আদায় করে যে নির্দিষ্ট ফরমে (ফরম নাম্বার ১০৭৭) ভূমিকর/খাজনা আদায়ের প্রমাণপত্র বা রসিদ দেয়া হয় তাকে দাখিলা বলা হয়।


ডিসিআর : ভূমিকর ছাড়া অন্যান্য সরকারি পাওনা আদায় করার পর যে নির্ধারিত ফরমে (ফরম নাম্বার ২২২) রসিদ দেয়া হয় তাকে ডিসিআর বলে।


কবুলিয়ত : সরকার কর্তৃক কৃষককে জমি বন্দোবস্ত দেয়ার প্রস্তাব প্রজা কর্তৃক গ্রহণ করে খাজনা প্রদানের যে অঙ্গীকারপত্র দেয়া হয় তাকে কবুলিয়ত বলে।


ফারায়েজ : ইসলামী বিধান মোতাবেক মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বণ্টনের নিয়ম ও প্রক্রিয়াকে ফারায়েজ বলে।


খানাপুরি : জরিপের সময় মৌজা নকশা প্রস্তুত করার পর খতিয়ান প্রস্তুতকালে খতিয়ান ফরমের প্রতিটি কলাম জরিপ কর্মচারী কর্তৃক পূরণ করার প্রক্রিয়াকে খানাপুরি বলে।


ওয়ারিশ : ওয়ারিশ অর্থ উত্তরাধিকারী। ধর্মীয় বিধান অনুয়ায়ী কোনো ব্যক্তি উইল না করে মৃত্যুবরণ করলে তার স্ত্রী, সন্তান বা নিকটাত্মীয়দের মধ্যে যারা তার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে মালিক হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন এমন ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের ওয়ারিশ বলে।


শিকস্তি : নদী ভাঙনের ফলে যে জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় তাকে শিকস্তি বলে। শিকস্তি জমি যদি ৩০ বছরের মধ্যে স্বস্থানে পয়স্তি হয় তাহলে শিকস্তি হওয়ার প্রাক্কালে যিনি ভূমি মালিক ছিলেন তিনি বা তার উত্তরাধিকার ওই জমির মালিকানা শর্তসাপেক্ষে পেয়ে থাকেন।


পয়স্তি : নদীগর্ভ থেকে পলিমাটির চর পড়ে জমির সৃষ্টি হওয়াকে পয়স্তি বলে।


দলিল : যে লিখিত বিবরণ আইনগত সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য তাকে দলিল বলা হয়। তবে রেজিস্ট্রেশন আইনের বিধান মোতাবেক জমি ক্রেতা এবং বিক্রেতা সম্পত্তি হস্তান্তর করার জন্য যে চুক্তিপত্র সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করেন সাধারণভাবে তাকে দলিল বলে।


Wednesday, February 5, 2025

এফিডেভিট (Affidavit) করে এনআইডি-তে নাম সংশোধন



 এফিডেভিট (Affidavit) করে এনআইডি-তে নাম সংশোধনের পদ্ধতি:

যদি আপনার এনআইডি কার্ডের নামের ভুল সংশোধনের জন্য কোনো শিক্ষাগত সনদ, জন্ম নিবন্ধন সনদ, বা অন্য সরকারি নথিতে সঠিক নাম না থাকে, তবে আদালতে এফিডেভিট করে নাম সংশোধন করা যেতে পারে। নিচে ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া দেওয়া হলো—

ধাপে ধাপে এফিডেভিট করে নাম সংশোধনের নিয়ম:

১. আ্যডভোকেটের মাধ্যমে এফিডেভিট তৈরি করুন

আপনার এলাকার  অ্যাডভোকেট নোটারি পাবলিক (Notary Public) এর কাছে গিয়ে নাম সংশোধনের এফিডেভিট তৈরি করতে হবে।

✅ এফিডেভিটে যা থাকতে হবে:
 • আপনার পুরাতন ভুল নাম এবং সঠিক নতুন নাম
 • ভুল নামের কারণে যেসব সমস্যা হচ্ছে, তা উল্লেখ করা
 • আপনার এনআইডি নম্বর, জন্ম তারিখ, ঠিকানা ইত্যাদি তথ্য
 • এটি আপনার নিজের দেওয়া হলফনামা হবে, যেখানে আপনি সঠিক নাম ব্যবহার করতে চান বলে ঘোষণা করবেন

✅ কোথায় এফিডেভিট করতে হয়?
 • নোটারি পাবলিক (যেকোনো আদালতে)
 • সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে

২. অনলাইনে আবেদন করুন:

আপনার এনআইডি সংশোধনের জন্য প্রথমে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন পোর্টালে আবেদন করতে হবে—

🔹 ওয়েবসাইট: services.nidw.gov.bd
🔹 ধাপ:
 1. ওয়েবসাইটে “Apply for Correction” অপশনে ক্লিক করুন।
 2. আপনার ১৭-সংখ্যার এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে লগইন করুন।
 3. মোবাইলে আসা OTP কোড দিয়ে ভেরিফাই করুন।
 4. সংশোধন করতে চাওয়া “নাম” অপশন সিলেক্ট করুন।
 5. সঠিক তথ্য দিন এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করুন।

৩.  প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (Documents Required):

✅ সঠিক নামের প্রমাণ হিসেবে যেকোনো একটি নথি:
 • জন্ম নিবন্ধন সনদ
 • শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ (এসএসসি, এইচএসসি, বা সমমান)
 • পাসপোর্ট (যদি থাকে)
 • আদালতের এফিডেভিট (যদি প্রয়োজন হয়)

✅ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট:
 • বিদ্যমান এনআইডি কার্ডের কপি
 • আবেদনকারীর ছবি (প্রয়োজনে)

৪.  আবেদন ফি প্রদান:

✅ সাধারণ নাম সংশোধনের জন্য ফি: ২৩০ টাকা
✅ আর্জেন্ট (জরুরি) সংশোধনের জন্য ফি: ৩৪৫ টাকা

ফি প্রদান করতে পারবেন নগদ, বিকাশ, রকেট, অথবা ব্যাংক মাধ্যমে।

৫. অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন দিন (যদি প্রয়োজন হয়):

আবেদনের পর নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন এবং আসল কাগজপত্র জমা দিতে হতে পারে।

৬. সংশোধিত এনআইডি সংগ্রহ করুন:

সংশোধনের অনুমোদন হয়ে গেলে ওয়েবসাইট থেকে নতুন এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন।

কত দিনে সংশোধন হবে?

সাধারণত ১৫-৩০ কর্মদিবসের মধ্যে সংশোধন হয়ে যায়। তবে জরুরি আবেদন করলে ৭-১০ দিনের মধ্যে পেয়ে যেতে পারেন।

আপনার প্রয়োজনে আরো বিস্তারিত তথ্যের জন্য নির্বাচন কমিশন অফিসে (EC Office) যোগাযোগ করতে পারেন।

Tuesday, February 4, 2025

ফোন ছিনতাই হলে আপনার করনীয়

 


আপনার ফোন ছিনতাই হলে দ্রুত নিচের পদক্ষেপগুলো নিন—


১. সরাসরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান

 • ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশকে ঘটনাটি জানান।

 • নিকটস্থ থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি (GD) করুন। এতে ফোনের IMEI নম্বর, মডেল, এবং ছিনতাইয়ের স্থান ও সময় উল্লেখ করুন।


২. ফোন ট্র্যাক করার চেষ্টা করুন

 • Find My Device (Android): Google Find My Device ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার ফোন লোকেট করুন বা লক করুন।

 • Find My iPhone (Apple): iCloud-এ লগ ইন করে “Find My iPhone” থেকে ফোন ট্র্যাক করুন বা ডাটা মুছে ফেলুন।


৩. সিম কার্ড ব্লক করুন

 • আপনার মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে কল করে সিমটি বন্ধ করুন এবং নতুন সিম তুলুন।


৪. ব্যাংক ও সামাজিক মাধ্যম সুরক্ষিত করুন

 • যদি ফোনে বিকাশ, নগদ, ব্যাংকিং অ্যাপ থাকে, তাহলে দ্রুত এগুলোর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।


 • Facebook, Gmail, WhatsApp, etc.-এর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন বা লগআউট করুন।


৫. IMEI নম্বর দিয়ে ট্র্যাকিংয়ের আবেদন করুন

 • বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC)-এর মাধ্যমে ফোন ট্র্যাকিংয়ের আবেদন করা যায়।


 • BTRC-এর “National Equipment Identity Register (NEIR)” সিস্টেমে গিয়ে ফোন ব্লক করার অনুরোধ করতে পারেন।


⚠ টিপস:

 • ফোন ছিনতাইকারীর সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করার চেষ্টা করবেন না।

       • সবসময় ফোনের IMEI নম্বর সংরক্ষণ করে রাখুন (Dial *#06#)।

 • স্ক্রিন লক, ফিঙ্গারপ্রিন্ট/পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।


দ্রুত পদক্ষেপ নিলে আপনার ফোন ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলো এবং ব্যক্তিগত তথ্য রক্ষা করা সহজ হবে।

Saturday, May 18, 2024

বিচারের মূর্তির ওপর দাঁড়িপাল্লা ও চোখ বাঁধার অর্থ কী?


ন্যায়বিচারের মূর্তির উপর দাঁড়িপাল্লা এবং চোখ বাঁধা আইনী ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা এবং ন্যায্যতার প্রতীক। দাঁড়িপাল্লা প্রমাণের ওজন এবং প্রতিযোগী স্বার্থের ভারসাম্যের প্রতিনিধিত্ব করে, যখন চোখ বাঁধা নির্দেশ করে যে পক্ষপাত বা কুসংস্কার ছাড়াই ন্যায়বিচার পরিচালনা করা উচিত। এই আইকনিক চিত্রকল্পটি এই ধারণাটি বোঝানোর জন্য যে ন্যায়বিচারটি পক্ষপাতিত্ব বা বৈষম্য ছাড়াই বস্তুনিষ্ঠভাবে করা উচিত।

Friday, May 17, 2024

অনুমতি ছাড়া একাধিক বিয়ে

আইন অনুযায়ী এক স্ত্রীর বর্তমানে আরেকটি বা একাধিক বিয়ে করাকে বহুবিবাহ বলে। আইন অনুযায়ী এক স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় আরেকটি বিয়ে করা যাবে না। তবে কোনো ব্যক্তির যদি এক স্ত্রী বর্তমান থাকাকালে আরেকটি বিয়ে করার প্রয়োজন হয়, তাহলে তাঁকে তাঁর বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের মধ্যে শেষ স্ত্রীর এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে আরেকটি বিয়ে করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করতে হবে।

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ৬ ধারামতে, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সালিসি পরিষদের কাছে অনুমতি না নিলে বিয়ে নিবন্ধন হবে না। অনুমতির জন্য ফি দিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে হবে এবং আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিয়ের অনুমতি দিতে যেসব বিষয়ের প্রতি বিবেচনা করা হবে তার মধ্যে অন্যতম হলো ১. বর্তমান স্ত্রীর বন্ধ্যাত্ব, ২. শারীরিক মারাত্মক দুর্বলতা, ৩. দাম্পত্য জীবন সম্পর্কিত শারীরিক অযোগ্যতা, ৪. দাম্পত্য অধিকার পুনর্বহালের জন্য আদালত থেকে প্রদত্ত কোনো আদেশ বা ডিক্রি বর্জন, ৫. মানসিকভাবে অসুস্থতা ইত্যাদি।

অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে শাস্তি কী

কোনো পুরুষ যদি সালিসি পরিষদের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তবে তিনি অবিলম্বে তাঁর বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের আশু বা বিলম্বিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করবেন। বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীরা আদালতে মামলা করে বিবাহবিচ্ছেদ করতে পারেন।

দ্বিতীয় বিয়ে করার কারণে প্রথম স্ত্রী আলাদা বসবাস করেও ভরণপোষণ পাবেন। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বসবাসরত নাবালক সন্তানদের ভরণপোষণ দিতে বাবা আইনত বাধ্য।

ভরণপোষণের পাশাপাশি স্ত্রী ও সন্তানরা উত্তরাধিকারীর অধিকার লাভ করবেন। মোহরানার টাকা পরিশোধ করা না হলে বকেয়া ভূমি রাজস্ব আদায়ের মতো আদায় করা হবে।

এ ছাড়া অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে এক বছর পর্যন্ত জেল ও ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

পাশাপাশি দণ্ডবিধি আইন ১৮৬০-এর ৪৯৪-এর বিধানমতে, স্বামী যদি স্ত্রীর জীবনকালে পুনরায় বিয়ে করেন তবে সেই ব্যক্তি যে কোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে যার মেয়াদ সাত বছর পর্যন্ত হতে পারে, তদুপরি অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।


Sunday, May 12, 2024

কোনো সন্তান বাবা-মাকে ভরণপোষণ না দিলে তাদের বিরুদ্ধে কি কি আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে

 


কী আছে আইনে

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে সাধারণত বাবা-মায়ের ভরণপোষণের জন্য ছেলে সন্তানকে দায়বদ্ধ ভাবা হয়। তবে 'পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন ২০১৩' অনুসারে, 'সন্তান বলতে বাবার ঔরসে এবং মায়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া সক্ষম ও সামর্থ্যবান পুত্র বা কন্যাকে বুঝাবে।

'পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন ২০১৩' এর ধারা ৩ এ প্রত্যেক সন্তানকে তার বাবা-মায়ের ভরণপোষণ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। যদি কোনো বাবা-মায়ের একাধিক সন্তান থাকে তবে সন্তানরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাবা-মার ভরণপোষণ নিশ্চিত করবেন।এই আইনে বাবা-মার ভরণপোষণ নির্বিঘ্ন করার জন্য প্রত্যেক সন্তানকে বাবা-মায়ের সঙ্গে একই স্থানে বসবাস করার কথা বলা হয়েছে। কোনো সন্তান তার বাবা বা মাকে বা দুজনকেই ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধনিবাস বা অন্য কোথাও একসঙ্গে বা আলাদা আলাদাভাবে বসবাস করতে বাধ্য করতে পারবেন না। 

এই আইনে বিচার ও শাস্তি

আইনটির ধারা ৬ ও ৭ এ বলা হয়েছে, কোনো সন্তান যদি 'পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন ২০১৩' এর কোনো বিধান আমান্য করেন এবং ওই সন্তানের বাবা বা মা লিখিত অভিযোগ যদি সরাসরি প্রথম শ্রেণীর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে করে থাকেন তবে ওই আদালতে অপরাধের বিচার হবে।

এই আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধ আমলযোগ্য, জামিনযোগ্য ও আপসযোগ্য। তবে কোনো আদালত অপরাধে সংশ্লিষ্ট সন্তানের বাবা বা মায়ের লিখিত অভিযোগ ছাড়া অপরাধ আমলে গ্রহণ করবেন না। এই আইনে আপস-নিষ্পত্তির ধারাও সংযুক্ত করা হয়েছে। 

'পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩' এর ধারা ৫(১) অনুসারে, কোনো সন্তান বাবা-মায়ের ভরণপোষণ না করলে, তিনি অনূর্ধ্ব ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন বা এই অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব ৩ মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

কোনো সন্তানের স্ত্রী বা স্বামী কিংবা পুত্র-কন্যা বা অন্য কোনো নিকট আত্মীয় বাবা-মায়ের বা দাদা-দাদির বা নানা-নানির ভরণপোষণ দেওয়ায় বাধা দিলে বা অসহযোগিতা করলে তিনিও ধারা ৫(১) অনুসারে দণ্ডিত হবেন।   

Saturday, May 11, 2024

কখন মানহানি মামলা হয়।

 




মানহানির সংজ্ঞা

১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারামতে, কোনো ব্যক্তি যদি অন্য কোনো ব্যক্তির খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে কথিত বা পঠিত হওয়ার জন্য কথা বা চিহ্ন বা দৃশ্যমান কল্পমূর্তির সাহায্যে সেই ব্যক্তি-সম্পর্কিত কোনো নিন্দাবাদ প্রণয়ন বা প্রকাশ করেন, তবে সেটি মানহানি হয়েছে বলে পরিগণিত হবে। উদ্দিষ্ট ব্যক্তির খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট হবে জেনে বা সুনাম নষ্ট হতে পারে বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও যদিও কেউ নিন্দাবাদ প্রণয়ন ও প্রকাশ করেনও তাহলেও সেটি মানহানি বলে গণ্য হবে।

মানহানির শাস্তি
দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির মানহানি করে, তবে ওই ব্যক্তি দুই বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদে বিনা শ্রম কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।’ 

চলতি বছর পাস হওয়া ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’-এর ২৯ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় বর্ণিত মানহানিকর তথ্য প্রকাশ বা প্রচার করেন, তাহলে ওই ব্যক্তির এমন কর্মকাণ্ড হবে একটি অপরাধ। এর জন্য তিনি অনধিক ২৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এ আইনে মানহানির মামলায় কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়নি।

কোন কাজগুলো মানহানি নয়
দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় কোন কাজগুলো মানহানি হবে সে সম্পর্কে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। পাশাপাশি এই ধারায় ১০টি ব্যতিক্রমের কথাও বলা হয়েছে। অর্থাৎ এই ব্যতিক্রমগুলো আইন অনুযায়ী মানহানি বলে গণ্য হবে না:

১. জনগণের কল্যাণে কারও প্রতি সত্য দোষারোপ করলে।

২. সরকারি কর্মচারীর সরকারি আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করলে।

৩. সরকারি বিষয়-সংশ্লিষ্ট প্রশ্নে কোনো ব্যক্তির আচরণ নিয়ে মতপ্রকাশ করলে।

৪. আদালতের কার্যবিবরণী প্রতিবেদন প্রকাশ করা মানহানির অন্তর্ভুক্ত হবে না। 

৫. যেকোনো জনসমস্যা সম্পর্কে ও কোনো ব্যক্তির আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা।

৬. আদালতে সিদ্ধান্তকৃত মামলার দোষ, গুণ বা সাক্ষীদের সম্পর্কে বা অন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আচরণ সম্পর্কে অভিমত দেওয়া।

৭. গণ-অনুষ্ঠানের অনুষ্ঠানাদি সম্পর্কে কোনো মতামত দেওয়া।

৮. কর্তৃত্বসম্পন্ন ব্যক্তির কাছে সৎ বিশ্বাসে কারও সম্পর্কে অভিযোগ করা হলে সেটিও মানহানি হবে না। যেমন: পুলিশের কাছে কারও ব্যাপারে সৎ বিশ্বাসে অভিযোগ দেওয়া। 

৯. কোনো ব্যক্তি কর্তৃক তার বা অন্য কারও স্বার্থ রক্ষার্থে দোষারোপ করা।

১০. জনকল্যাণের স্বার্থে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে কারও সম্পর্কে কিছু বলা হলে।

বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৯ অনুযায়ী বাংলাদেশি নাগরিকদের বাক্‌স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। তবে এর মানে এই নয় যে, কোনো ব্যক্তিকে তার সম্মানহানি বা সুনাম নষ্ট করার জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোনো কথা বলার অধিকার একজন নাগরিককে দেওয়া হয়েছে। 

মানহানির মামলা কোথায় করবেন
কারও বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করতে চাইলে, আদালতে যেতে হবে। যদি কেউ কারও বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনের অধীন মানহানির মামলা


করতে চান তাহলে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে হবে। আর যদি দণ্ডবিধির অধীন মামলা করতে চান তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা করতে হবে।’ 

ভূমি বিষয়ক নিম্নের তথ্যাবলী প্রত্যেকেরই জানা উচিত

ভূমি বিষয়ক নিম্নের তথ্যাবলী প্রত্যেকেরই জানা উচিত! 

“পর্চা”, “দাগ”, “খতিয়ান”, “মৌজা”, “জমা খারিজ”, “নামজারি”, “তফসিল” ইত্যাদি বিষয়ের ডেফিনেশন এবং জেনে নিন ভূমি বিষয়ক জরুরী সব তথ্য।

১!“নামজারী” বা মিউটেশন কাকে বলে?

ক্রয়সূত্রে/উত্তরাধিকার সূত্রে অথবা যেকোন সূত্রে জমির নতুন মালিক হলে নতুন মালিকের নাম সরকারি খতিয়ানভুক্ত করার প্রক্রিয়াকে নামজারী বলা হয়।

২!“জমা খারিজ”কাকে বলে?

যৌথ জমা বিভক্ত করে আলাদা করে নতুন খতিয়ান সৃষ্টি করাকে জমা খারিজ বলে। অন্য কথায় মূল খতিয়ান থেকে কিছু জমির অংশ নিয়ে নতুন জোত বা খতিয়ান সৃষ্টি করাকে জমা খারিজ বলে।

৩!“খতিয়ান” কাকে বলে?

ভূমি জরিপকালে ভূমি মালিকের মালিকানা নিয়ে যে বিবরণ প্রস্তুত করা হয় তাকে “খতিয়ান” বলে।

খতিয়ান প্রস্তত করা হয় মৌজা ভিত্তিক। আমাদের দেশে CS, RS, SA এবং সিটি জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। এসব জরিপকালে ভূমি মালিকের তথ্য প্রস্তত করা হয়েছে তাকে “খতিয়ান” বলে। যেমন CS খতিয়ান, RS খতিয়ান…

ভূমি জরিপ: CS, RS, PS, BS কি?


৪!ভূমি বা Land কাকে বলে?

“ভূমি কাকে বলে?”- এর আইনী সংজ্ঞা রয়েছে। The State Acquisition and Tenancy Act, 1950- এর ২(১৬)- ধারা মতে, “ভূমি (land) বলতে আবাদি, অনাবাদি অথবা বছরের যেকোন সময় পানিতে ভরা থাকে এবং ভূমি হতে প্রাপ্ত সুফল, ঘরবাড়ি বা দালান কোঠা বা মাটির সঙ্গে সংযুক্ত অন্যান্য দ্রব্য অথবা স্হায়ীভাবে সংযুক্ত দ্রব্য এর অন্তর্ভুক্ত বুঝাবে।”


৫! ভূমি জরিপ/রেকর্ড কাকে বলে? ভূমি জরিপ হচ্ছে ভূমির মালিকানা সম্বলিত ইতিহাসের সরেজমিন ইতিবৃত্ত।

আইনী সংজ্ঞা হচ্ছে, The Survey Act, 1875 এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী সরকারের জরিপ বিভাগ সরেজমিন জরিপ করে ভূমির মালিকানার যে বিবরণ

এবং নকশা তৈরী করে তাই রেকর্ড বা জরিপ। অর্থাৎ রেকর্ড বা জরিপ হচ্ছে মালিকানার বিরবণ এবং নকশার সমন্বয়। একটি ভূমির মালিক কে এবং তার সীমানা কতটুকু এটা ভূমি জরিপের মাধ্যমে নকশা/ম্যাপ নির্ণয় করা হয়। এই নকশা এবং ম্যাপ অনুসারে মালিকানা সম্পর্কিত তখ্য যেমন ভূমিটি কোন মৌজায় অবস্থিত, এর খতিয়ান নাম্বার, ভূমির দাগ নাম্বার, মালিক ও দখলদারের বিবরণ ইত্যাদি প্রকাশিত হয় যাকে খতিয়ান বলে। রেকর্ড বা জরিপ

প্রচলিতভাবে খতিয়ান বা স্বত্ত্বলিপি বা Record of Rights (RoR) নামেও পরিচিত। রেকর্ড বা জরিপের ভিত্তিতে ভূমি মালিকানা সম্বলিত বিবরণ খতিয়ান হিসেবে পরিচিত। যেমন CS খতিয়ান, RS খতিয়ান, ইত্যাদি। আমাদের দেশে পরিচালিত ভূমি জরিপ বা রেকর্ড গুলো হচ্ছে;

1. CS -Cadastral Survey

2. SA- State Acquisition Survey (1956)

3. RS -Revitionel Survey

4. PS – Pakistan Survey

5. BS- Bangladesh Survey (1990)


ক) সি.এস. জরিপ/রেকর্ড (Cadastral Survey)

“সিএস” হলো Cadastral Survey (CS) এর সংক্ষিপ্ত রূপ। একে ভারত উপমহাদেশের প্রথম জরিপ বলা হয় যা ১৮৮৯ সাল হতে ১৯৪০ সালের মধ্যে পরিচালিত হয়। এই জরিপে বঙ্গীয় প্রজাতন্ত্র আইনের দশম অধ্যায়ের বিধান মতে দেশের সমস্ত জমির বিস্তারিত নকশা প্রস্তুত করার এবং প্রত্যেক মালিকের জন্য দাগ নম্বর উল্লেখপুর্বক খতিয়ান প্রস্তুত করার বিধান করা হয়। প্রথম জরিপ হলেও এই জরিপ প্রায় নির্ভূল হিসেবে গ্রহণযোগ্য। মামলার বা ভূমির জটিলতা নিরসনের ক্ষেত্রে এই জরিপকে বেস হিসেবে অনেক সময় গণ্য করা হয়।

খ) এস.এ. জরিপ (State Acquisition Survey)

১৯৫০ সালে জমিদারী অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন পাশ হওয়ার পর সরকার ১৯৫৬ সালে সমগ্র পূর্ববঙ্গ প্রদেশে জমিদারী অধিগ্রহনের সিদ্ধান্ত নেয় এরং রায়েতের সাথে সরকারের সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে জমিদারদের প্রদেয় ক্ষতিপুরণ নির্ধারন এবং রায়তের খাজনা নির্ধারনের জন্য এই জরিপ ছিল।

জরুরী তাগিদে জমিদারগন হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই জরিপ বা খাতিয়ান প্রণয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল।

গ) আর.এস. জরিপ ( Revisional Survey)

সি. এস. জরিপ সম্পন্ন হওয়ার সুদীর্ঘ ৫০ বছর পর এই জরিপ পরিচালিত হয়। জমি, মলিক এবং দখলদার ইত্যাদি হালনাগাদ করার নিমিত্তে এ জরিপ সম্পন্ন করা হয়। পূর্বেও ভুল ত্রুটি সংশোধনক্রমে আ. এস জরিপ এতই শুদ্ধ হয় যে এখনো জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে আর, এস জরিপের উপর নির্ভর করা হয়। এর খতিয়ান ও ম্যাপের উপর মানুষ এখনো অবিচল আস্থা পোষন করে।

ঘ) সিটি জরিপ (City Survey)

সিটি জরিপ এর আর এক নাম ঢাকা মহানগর জরিপ। আর.এস. জরিপ এর পর বাংলাদেশ সরকার কর্তিক অনুমতি ক্রমে এ জরিপ ১৯৯৯ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে সম্পন্ন করা হয়। এ যবত কালে সর্বশেষ ও আধুনিক জরিপ এটি। এ জরিপের পরচা কম্পিউটার প্রিন্ট এ পকাশিত হয়।


৬!“পর্চা” কাকে বলে?

ভূমি জরিপকালে চূড়ান্ত খতিয়ান প্রস্তত করার পূর্বে ভূমি মালিকদের নিকট খসড়া খতিয়ানের যে অনুলিপি ভুমি মালিকদের প্রদান করা করা হ তাকে “মাঠ পর্চা” বলে। এই মাঠ পর্চা রেভিনিউ/রাজস্ব অফিসার কর্তৃক তসদিব বা সত্যায়ন হওয়ার পর যদি কারো কোন আপত্তি থাকে তাহলে তা শোনানির পর খতিয়ান চুড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয়। আর চুড়ান্ত খতিয়ানের অনুলিপিকে “পর্চা” বলে।


৭!“মৌজা” কাকে বলে?

যখন CS জরিপ করা হয় তখন থানা ভিত্তিক এক বা একাধিক গ্রাম, ইউনিয়ন, পাড়া, মহল্লা অালাদা করে বিভিন্ন এককে ভাগ করে ক্রমিক নাম্বার দিয়ে চিহ্তি করা হয়েছে। আর বিভক্তকৃত এই প্রত্যেকটি একককে মৌজা বলে।

৮!“তফসিল” কাকে বলে?

জমির পরিচয় বহন করে এমন বিস্তারিত বিবরণকে “তফসিল” বলে। তফসিলে, মৌজার নাম, নাম্বার, খতিয়ার নাম্বার, দাগ নাম্বার, জমির চৌহদ্দি, জমির পরিমাণ সহ ইত্যাদি তথ্য সন্নিবেশ থাকে।


৯!“দাগ” নাম্বার কাকে বলে? যখন জরিপ ম্যাপ প্রস্তুত করা হয় তখন মৌজা নক্সায় ভূমির সীমানা চিহ্নিত বা সনাক্ত করার লক্ষ্যে প্রত্যেকটি ভূমি খন্ডকে আলাদা আলাদ নাম্বার দেয়া হয়। আর এই নাম্বারকে দাগ নাম্বার বলে। একেক দাগ নাম্বারে বিভিন্ন পরিমাণ ভূমি থাকতে পারে। মূলত, দাগ নাম্বার অনুসারে একটি মৌজার অধীনে ভূমি মালিকের সীমানা খূটিঁ বা আইল দিয়ে সরেজমিন প্রর্দশন করা হয়।


১০!“ছুটা দাগ” কাকে বলে?

ভূমি জরিপকালে প্রাথমিক অবস্থায় নকশা প্রস্তুত অথবা সংশোধনের সময় নকশার প্রতিটি ভূমি এককে যে নাম্বার দেওয়া হয় সে সময় যদি কোন নাম্বার ভুলে বাদ পড়ে তাকে ছুটা দাগ বলে। আবার প্রাথমিক পর্যায়ে যদি দুটি দাগ একত্রিত করে নকশা পুন: সংশোধন করা হয় তখন যে দাগ নাম্বার বাদ যায় তাকেও ছুটা দাগ বলে।


১১!“খানাপুরি” কাকে বলে? জরিপের সময় মৌজা নক্সা প্রস্তুত করার পর খতিয়ান প্রস্তুতকালে খতিয়ান ফর্মের প্রত্যেকটি কলাম জরিপ কর্মচারী কর্তৃক পূরন করার প্রক্রিয়াকে খানাপুরি বলে।


১২!“আমিন” কাকে বলে?

ভূমি জরিপের মাধ্যমে নক্সা ও খতিয়ান প্রস্তত ও ভূমি জরিপ কাজে নিযুক্ত কর্মচারীকে আমিন বলে।


১৩!“কিস্তোয়ার” কাকে বলে?

ভূমি জরিপ কালে চতুর্ভুজ ও মোরব্বা প্রস্তত করার পর সিকমি লাইনে চেইন চালিয়ে সঠিকভাবে খন্ড খন্ড ভুমির বাস্তব ভৌগলিক চিত্র অঙ্কনের মাধ্যমে নকশা প্রস্তুতের পদ্ধতিকে কিস্তোয়ার বলে।


১৪!“খাজনা” ককে বলে?

সরকার বার্ষিক ভিত্তিতে যে প্রজার নিকট থেকে ভূমি ব্যবহারের জন্য যে কর আদায় করে তাকে খাজনা বলে।


১৫!“দাখিলা” কাকে বলে?

ভূমি কর/খাজনা আদায় করে যে নির্দিষ্ট ফর্মে ( ফর্ম নং১০৭৭) ভূমি কর/খাজনা আদায়ের প্রমান পত্র বা রশিদ দেওয়া হয় তাকে দাখিলা বলা হয়।


১৬!"DCR কাকে বলে?

ভূমি কর ব্যতিত আন্যান্য সরকারি পাওনা আদায় করার পর যে নির্ধারিত ফর্মে (ফর্ম নং ২২২) রশিদ দেওয়া হয় তাকে DCR বলে।


১৭!“কবুলিয়ত” কাকে বলে?

সরকার কর্তৃক কৃষককে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রস্তাব প্রজা কর্তৃক গ্রহণ করে খাজনা প্রদানের যে অঙ্গিকার পত্র দেওয়া হয় তাকে কবুলিয়ত বলে।


১৮!“নাল জমি” কাকে বলে?

২/৩ ফসলি সমতল ভূমিকে নাল জমি বলা হয়।


১৯!“খাস জমি” কাকে বলে?

সরকারের ভূমি মন্ত্রনালয়ের আওতাধিন যে জমি সরকারের পক্ষে কালেক্টর বা ডিসি তত্ত্বাবধান করেন এমন জমিকে খাস জমি বলে।


২০!“চান্দিনা ভিটি” কাকে বলে?

হাট বাজারের স্থায়ী বা অস্থায়ী অকৃষি জমির যে অংশ প্রজার প্রতি বরাদ্ধদ দেওয়া হয় তাকে চান্দিনা ভিটি বলে।


২১!“ওয়াকফ” কাকে বলে?

ইসলামি বিধান অনুযায়ী কোন ভূমি তার মালিক কর্তৃক ধর্মীয় ও সমাজ কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের ব্যয় ভার বহন করার উদ্দেশ্যে কোন দান করাকে ওয়াকফ বলে।


২২!“মোতওয়াল্লী” কাকে বলে?

যিনি ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধান করেন তাকে মোতওয়াল্লী বলে। ওয়াকফ প্রশাসকের অনুমতি ব্যতিত মোতওয়াল্লী ওয়াকফ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে না।


২৩!“দেবোত্তর” সম্পত্তি কাকে বলে?

হিন্দুধর্ম মতে, ধর্মীয় কাজের জন্য উৎসর্গকৃত ভূমিকে দেবোত্তর সম্পত্তি বলে।


২৪!“ফরায়েজ” কাকে বলে?

ইসলামি বিধান মোতাবেক মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বন্টন করার নিয়ম ও প্রক্রিয়াকে ফরায়েজ বলে।


২৫!“ওয়ারিশ” কাকে বলে?

ওয়ারিশ অর্থ উত্তরাধিকারী । ধর্মীয় বিধানের অনুয়ায়ী কোন ব্যক্তি উইল না করে মৃত্যু বরন করলে তার স্ত্রী, সন্তান বা নিকট আত্মীয়দের মধ্যে যারা তার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে মালিক হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন এমন ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণকে ওয়ারিশ বলে।

২৬! “সিকস্তি” কাকে বলে?

নদী ভাঙ্গনের ফলে যে জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায় তাকে সিকস্তি বলে। সিকস্তি জমি যদি ৩০ বছরের মধ্যে স্বস্থানে পয়ন্তি হয় তাহলে সিকস্তি হওয়ার প্রাক্কালে যিনি ভূমি মালিক ছিলেন তিনি বা তাহার উত্তরাধিকারগন উক্ত জমির মালিকানা শর্ত সাপেক্ষ্যে প্রাপ্য হবেন।


২৭!“পয়ন্তি” কাকে বলে?

নদী গর্ভ থেকে পলি মাটির চর পড়ে জমির সৃষ্টি হওয়াকে পয়ন্তি বলে।


২৮!“দলিল” কাকে বলে?

যে কোন লিখিত বিবরণ আইনগত সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য তাকে দলিল বলা হয়। তবে রেজিস্ট্রেশন আইনের বিধান মোতাবেক জমি ক্রেতা এবং বিক্রেতা সম্পত্তি হস্তান্তর করার জন্য যে চুক্তিপত্র সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করেন সাধারন ভাবে তাকে দলিল বলে।


ভূমির পরিমাপঃ


ডেসিমেল বা শতাংশ বা শতকঃ

***************************

১ শতাংশ = ৪৩৫.৬০ বর্গফুট

১ শতাংশ =১০০০ বর্গ লিঙ্ক

১ শতাংশ = ৪৮.৪০ বর্গগজ

৫ শতাংশ = ৩ কাঠা = ২১৭৮ বর্গফুট

১০ শতাংশ = ৬ কাঠা = ৪৩৫৬ বর্গফুট

১০০ শতাংশ = ১ একর =৪৩৫৬০বর্গফুট


কাঠা পরিমাপঃ

****************

১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট/৭২১.৪৬ বর্গফুট

১ কাঠা = ৮০ বর্গগজ/৮০.১৬ বর্গগজ

১ কাঠা = ১.৬৫ শতাংশ

২০ কাঠা = ১ বিঘা

৬০.৫ কাঠা =১ একর


একরের পরিমাপঃ

******************

১ একর = ১০০ শতক

১ একর = ৪৩,৫৬০ বর্গফুট

১ একর = ১,০০,০০০ বর্গ লিঙ্ক

১ একর = ৪,৮৪০ বর্গগজ

১ একর = ৬০.৫ কাঠা

১ একর = ৩ বিঘা ৮ ছটাক

১ একর = ১০ বর্গ চেইন = ১,০০,০০০ বর্গ লিঙ্ক

১ একর = ৪,০৪৭ বর্গমিটার

১ শতক = ০.৫ গন্ডা বা ৪৩৫.৬০ বর্গফুট


বিঘা পরিমাপঃ

*************

১ বিঘা = ১৪,৪০০ বর্গফুট /১৪৫২০বর্গফুট

১ বিঘা = ৩৩,০০০ বর্গলিঙ্ক

১ বিঘা = ৩৩ শতাংশ

১ বিঘা = ১৬০০ বর্গগজ/১৬১৩ বর্গগজ

১ বিঘা = ২০ কাঠা

৩ বিঘা ৮ ছটাক = ১.০০ একর


লিঙ্ক পরিমাপঃ

****************

১লিঙ্ক = ৭.৯ ইঞ্চি /৭.৯২ ইঞ্চি

১লিঙ্ক =০.৬৬ ফুট

১০০ লিঙ্ক = ৬৬ ফুট

১০০ লিঙ্ক = ১ গান্টার শিকল

১০০০ বর্গ লিঙ্ক = ১ শতক

১,০০,০০০ বর্গ লিঙ্ক = ১ একর


কানি একর শতকে ভূমির পরিমাপঃ

*******************************

১ কানি = ২০ গন্ডা

১ গন্ডা = ২ শতক

১ শতক =২ কড়া

১ কড়া = ৩ কন্ট ১ কন্ট = ২০ তিল


ফুট এর হিসাবঃ

*****************

১ কানি = ১৭২৮০ বগফুট

১ গন্ডা = ৮৬৪ বফু

১ শতক= ৪৩৫.৬০ বফু

১ কড়া = ২১৭.৮ বফু

১ কন্ট = ৭২ বফু

১ তিল= ৩.৬ বফু


বর্গগজ/বর্গফুট অনুযায়ী শতাংশ ও একরের পরিমাণঃ

*********************************

৪৮৪০ বর্গগজ = ১ একর

৪৩৫৬০ বর্গফুট= ১ একর

১৬১৩ বর্গগজ= ১ বিঘা

১৪৫২০বর্গফুট = ১ বিঘা

৪৮.৪০ বর্গগজ = ০১ শতাংশ

৪৩৫.৬০ বর্গফুট= ০১ শতাংশ

৮০.১৬ বর্গগজ= ১ কাঠা

৭২১.৪৬ বর্গফুট = ১ কাঠা

৫.০১ বর্গগজ = ১ ছটাক

২০ বর্গহাত = ১ ছটাকা

১৮ ইঞ্চি ফুট= ১ হাত (প্রামাণ সাই)


Friday, May 10, 2024

পাওনা টাকা কিভাবে আদায় করবেন।


পাওনা টাকা আদায়ের আইনগত কৌশল:

লিগ্যাল নোটিশ : পাওনা টাকা আদায়ে প্রাথমিকভাবে আপনি আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে নির্দিষ্ট সময় দিয়ে আপনার পাওনা টাকা চাইতে পারেন। 

পাওনা টাকা ফেরত না দিলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় আদালতেই আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। দেওয়ানি আদালতের আশ্রয় নিতে হলে মানি মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে দাবি করা টাকার অনুপাতে কোর্ট ফি দাখিল করতে হয়। 

ফৌজদারি আদালতে আশ্রয় নিতে হলে প্রতারণা এবং অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ এনে সিআর (নালিশি) মামলা দায়ের করা যায়। এছাড়া থানায় এজাহার হিসেবেও মামলা দায়েরের সুযোগ রয়েছে। আদালতে সরাসরি মামলা দায়ের করলে আদালত জবানবন্দি নিয়ে সরাসরি সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি আমলে না নিয়ে পুলিশ বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলতে পারে। এ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আদালত আমল গ্রহণ করে আদেশ দেন। ফৌজদারি আদালতে মামলা হলে দায়ী ব্যক্তি জামিন না-ও পেতে পারেন। অনেক সময় দেখা যায়, দেনাদার টাকা পরিশোধ করার সময় চেকে প্রদান করে থাকেন কিন্তু চেকটি ব্যাংকে নগদায়নের জন্য জমা দিলে চেকটি ডিজঅনার হয়। সে ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের অভিযোগে মামলা দায়ের করার সুযোগ রয়েছে।

টাকা ধার দেওয়ার সময় যা করবেন :

প্রয়োজনে যদি টাকা ধার দিতেই হয়, তাহলে যতই আপনজন হোক না কেন, তাঁর সঙ্গে আপনি একটি লিখিত চুক্তি করে নিন। ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি চুক্তি করে নিন এবং এই চুক্তিতে কী কারণে কত টাকা ধার দিলেন, তা স্পস্ট করে উল্লেখ করতে হবে। কবে অপর পক্ষ টাকা ফেরত দেবে এবং পুরোটা একসঙ্গে না কিস্তিতে পরিশোধ করবে, তা উল্লেখ করতে হবে। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না দেয়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ থাকবে। বিষয়টা স্ট্যাম্প কাগজে উল্লেখ করা দরকার। মনে রাখতে হবে, চুক্তিপত্রটি যেন আইন অনুযায়ী সম্পাদিত হয়। এছাড়া চুক্তিটি নোটারি বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা সত্যায়িত করে নিতে হবে। চুক্তিপত্র সম্পাদনের সময় সাক্ষী হিসেবে রাখুন কয়েকজনকে। নির্দিষ্ট পরিমান টাকা উল্লেখ করে তার নিজের সাক্ষর করা একটি ব্যাংক চেক ও রাখতে পারেন।

স্থানীয় শালিশ বিচারের আশ্রয় :

আপনি এ ব্যপারে প্রথমে গ্রাম্য আদালতে অভিযোগ করবেন কিংবা এলাকার মাতব্বর/মুরুব্বীদেরকে জানিয়ে তাদের আপনার বৈধ কাগজ দেখিয়ে পাওনা টাকা আদায়ের দেয়ার আহ্বান করতে পারেন। এক্ষেত্রে গ্রাম্য আদালত কিংবা মাতব্বর/মুরুব্বীরা আপনাকে এবং পাওনাদারকে ডেকে বৈঠকের মাধ্যমে একটি সিদ্ধান্তে আসতে পারেন। তবে অনেক ক্ষেত্রেই যারা প্রভাবশালী, তার প্রভাবের কাছে স্থানীয় বিচার টিকেনা, এক্ষেত্রে যদি বৈঠকের সিদ্ধান্ত আপনার পক্ষে না যায় তবে হতাশ হবেন না। আপনার উপর কেউ কোন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারবে না। বৈঠকের সিদ্ধান্ত আপনি যদি না মানেন তবে তাদের পরিষ্কার করে বলে দিবেন যে আমি আপনাদের সিদ্ধান্তে খুশি হতে পারছিনা ফলে আমি আদালতে আইনের শরণাপন্ন হবেন। আইন ও আদালত আপনার পাওনা টাকা ফিরে পেতে আপনাকে যথেষ্ট প্রতিকার দিচ্ছে। এক্ষেত্রে আপনি ফৌজদারী আদালত অথবা দেওয়ানী আদালত দুই আদালতেই আপনার পাওনা টাকা ফিরে পেতে মামলা করতে পারবেন।

থানায়  মামলা : 

থানা পাওনাদারের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের মাধ্যমে আতœসাতের মামলা করতে হবে। পাওনা টাকার দাবীর সাপেক্ষে যে সমস্ত কাগজ পত্র বা যে সমস্ত প্রমাণ আপনার কাছে আছে সে সব কিছু তদন্তকারী অফিসারের নিকট জমা দিতে হবে। যেমন- রশিদ থাকতে পারে-ইত্যাদি যে সমস্ত ডকুমেন্টগুলো আছে সেগুলি নিয়ে যেতে হবে।

আদালতে মামলা :

আদালতে যত মামলা-মোকদ্দমা হয়, তার একটা বড় অংশই পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে। আদালতে মামলা দায়ের পূর্বে পাওনা টাকার দাবীর সাপেক্ষে যে সমস্ত কাগজ পত্র বা যে সমস্ত প্রমাণ আপনার কাছে আছে সে সব কিছু নিয়ে একজন আইনজীবীর নিকট যেতে হবে। আইনজীবির মাধ্যমে পাওনাদারকে লিগ্যাল নোটিশ দিতে হবে। লিগ্যাল নোটিশে পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য কয়েক দিন সময় দিতে হবে। লিগ্যাল নোটিশে দেওয়া উক্ত সময়ের মধ্যে যদি পাওনাদার আপনার পওনা টাকা পরিশোধ করে তাহলেতো ভাল। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে যদি উক্ত টাকা পরিশোধ না করে সেক্ষেত্রে পাওনাদারের  বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য প্রমাণগুলো সাথে নিয়ে যেতে হবে নিকটতস্থ কোর্টে। সেখানে গিয়ে একজন ভাল আইনজীবির মাধ্যমে পাওনাদারের বিরুদ্ধে একটি মানি সুটের মামলা করতে হবে।


Thursday, November 14, 2019

সড়ক ও পরিবহন আইন ২০১৮

নতুন সড়ক ও পরিবহন  আইনের উল্লেখযোগ্য ১৪টি বিধান:

  • সড়কে গাড়ি চালিয়ে উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে হত্যা করলে ৩০২ অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
  • সড়কে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালালে বা প্রতিযোগিতা করার ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। আদালত অর্থদণ্ডের সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে দেয়ার নির্দেশ দিতে পারবে।
  • মোটরযান দুর্ঘটনায় কোন ব্যক্তি গুরুতর আহত বা প্রাণহানি হলে চালকের শাস্তি দেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জেল ও সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা।
  • ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরযান বা গণপরিবহন চালানোর দায়ে ছয় মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেয়া হয়েছে।
  • নিবন্ধন ছাড়া মোটরযান চালালে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
  • ভুয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার এবং প্রদর্শন করলে ছয় মাস থেকে দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা এক লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।
  • ফিটনেসবিহীন ঝুঁকিপূর্ণ মোটরযান চালালে ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেয়া হয়েছে।
  • ট্রাফিক সংকেত মেনে না চললে এক মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দণ্ডিত করা হবে।
  • সঠিক স্থানে মোটর যান পার্কিং না করলে বা নির্ধারিত স্থানে যাত্রী বা পণ্য ওঠানামা না করলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।
  • গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বললে এক মাসের কারাদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
  • একজন চালক প্রতিবার আইন অমান্য করলে তার পয়েন্ট বিয়োগ হবে এবং এক পর্যায়ে লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে।
  • গণ পরিবহনে নির্ধারিত ভাড়ার চাইতে অতিরিক্ত ভাড়া, দাবী বা আদায় করলে এক মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দণ্ডিত করা হবে।
  • আইন অনুযায়ী ড্রাইভিং লাইসেন্সে পেতে হলে চালককে অষ্টম শ্রেনি পাস এবং চালকের সহকারীকে পঞ্চম শ্রেণি পাস হতে হবে হবে। আগে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোন প্রয়োজন ছিল না।
  • গাড়ি চালানোর জন্য বয়স অন্তত ১৮ বছর হতে হবে। এই বিধান আগেও ছিল।
এছাড়া সংরক্ষিত আসনে অন্য কোনও যাত্রী বসলে এক মাসের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

Popular Posts